পুরো দেশ আগামী বছর ডিজিটাল রাডারের আওতায় আসছে

এজন্য বিমানবন্দরের সামনে একটি ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পুরো দেশ আগামী বছর ডিজিটাল রাডারের আওতায় আসছে

প্রথম নিউজ, অনলাইন: বাংলাদেশের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে চলছে সুপার ইমপোজড ডিজিটাল রাডার কার্যক্রম। আগামী বছরের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে সিভিল এভিয়েশন সূত্র। রাডারব্যবস্থা স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আসছে অক্টোবর মাসে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে এই রাডারব্যবস্থা উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বিমানবন্দরের সামনে একটি ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০১৭ সালের ১লা মার্চ পিপিপি’র পরিবর্তে সরকারি অর্থায়নে সাপ্লাই ইনস্টলেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন অব মাল্টি মোড সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (রাডার, এডিএস-বি) এটিএস অ্যান্ড কমিউনিকেশন সিস্টেম শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

এ প্রকল্পেরই নতুন নামকরণ করা হয়েছে সিএনএস-এটিএম প্রকল্প। এ খাতে ৭০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ পড়ছে। ১৯৮০ সালে স্থাপিত পুরোনো রাডার ব্যবস্থাটি ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এটি প্রতিস্থাপন করে নতুন রাডার বসানোর জন্য ২০০৫ সাল থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৭ সালের ১লা মার্চ রাডার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এতে ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। অনেক সমালোচনার মুখে ওই অনুমোদন বাতিল করে ২০২১ সালে বেবিচক তার নিজস্ব অর্থায়নে এ-সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন পায়। এক্ষেত্রে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা। প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২১ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের রাডার প্রস্তুতকারী কোম্পানি থ্যালেসের সঙ্গে চুক্তি করে বেবিচক।

চুক্তি অনুযায়ী, পরবর্তী তিন বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের মধ্যে রাডার স্থাপনের কাজ শেষ করতে হবে। প্রস্তাবিত এই রাডার প্রকল্পে থাকছে সার্ভিল্যান্স, অটোমেশন ও ভয়েস কমিউনিকেশন সিস্টেম। এসব কম্পোনেন্টের সমন্বয়ে গড়া এই সিস্টেম বাস্তবায়ন হলে দেশের আকাশপথ হবে অন্যতম নিরাপদ বিমান চলাচলের রুট। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা রাডারের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। উন্নত প্রযুক্তি সংযুক্ত করতে যাচ্ছে সিভিল এভিয়েশন। রাডার ইতিমধ্যে এসে গেছে। দুটি টাওয়ার কনস্ট্রাকশনের কাজ চলমান রয়েছে। রাডারসহ যাবতীয় সরঞ্জামাদি ফ্রান্স থেকে আসছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে। 

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, থার্ড টার্মিনাল ও রাডার স্থাপন দুটো প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শাহজালাল বিমানবন্দরে শিগগিরই চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক এই রাডারব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের পুরো আকাশসীমা ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আসবে। এতে আকাশপথে বিমান চলাচল আরও নিরাপদ হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অত্যাধুনিক রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বসছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সিএনএস-এটিএম রাডার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও আগামী বছরের জুন মাসে রাডার প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামে দুটো রাডারকে সুপার ইমপোজড এর মাধ্যমে অটোমেশন করে পুরো বাংলাদেশের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কিছু সেন্সর স্থাপনের কাজ চলছে। যেটার মাধ্যমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসে আন্তঃবিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম মনিটর করা হবে।

কোন বিমানবন্দরের কি পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে সে বিষয়ে আপডেট তথ্য পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও কমিউনিকেশন এবং সার্ভিলেন্স এই দুটোই সিভিল এভিয়েশন ও অটোমেশনের আওতায় চলে আসবে। সব আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা চালুর পরে আন্তর্জাতিক রুটের কোনো বিদেশি বিমান বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে বাধ্য থাকবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।