টাঙ্গাইলে শাশুড়ি-পুত্রবধূসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা গ্রামের খামারপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী

প্রথম নিউজ টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাশতলা গ্রামের খামারপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের বসতবাড়ি থেকে শাশুড়ি-পুত্রবধূসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জয়েন উদ্দিনের শিশুপুত্র শাফি (৪)কে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকালে একটি আধা-পাকা বাড়ির চারদিকে লোহার গ্রিল ঘেরা তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত তিনজন হচ্ছেন- কাশতলা গ্রামের মৃত হযরত আলীর স্ত্রী জমেলা বেগম (৬৫), তার ছেলে সৌদি প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং সুমির পরকীয়া প্রেমিক কালিহাতী সাতুটিয়া পৌরশহরের সোহরাব আলীর ছেলে শাহজালাল (৩০)। নিহত সুমি আক্তার ও শাশুড়ি জমেলা বেগমের শরীরের নানা জায়গায় অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান। এ ছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত সুমি আক্তারের ছেলে শাফি (৪)। তার মাথার পেছনের অংশে শক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
লাশ উদ্ধার হওয়া বসতঘরের দেয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা কিছু কথা। সেখানে লেখা রয়েছে ‘এমনটা হতো না যদি আমার সুমি আমার কাছে থাকতো, এই সবকিছুর জন্য সুমির বাবা দায়ী’। ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া সংক্রান্ত কোনো ঘটনা থেকে এই তিন খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। লিশ ও স্থানীয়রা বলছে, শাহজালালের সঙ্গে সুমির পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন পূর্বে সুমি পরকীয়া প্রেমিক শাহজালালের হাত ধরে স্বামী, সংসার ও শিশুপুত্র রেখে পালিয়ে গিয়ে ৩/৪ মাস নিরুদ্দেশ ছিল। মাস তিনেক আগে ছুটিতে এসে পরিবারের লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মেয়ের বাবার মধ্যস্থতায় সুমিকে তার স্বামীর নিকট ফিরিয়ে দেন। তারপর চার মাস তাদের সংসার ভালোই চলছিল। এর মধ্যে সুমির স্বামী জয়েন উদ্দিনের ছুটি শেষ হয়ে গেলে সে পুনরায় সৌদি আরবে চলে যায়। স্বামী চলে যাওয়ার পর প্রেমিক শাহজালালের সঙ্গে তার পুনরায় সম্পর্ক গড়ে উঠে।
৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিনহাজ উদ্দিন জানান, দিগর ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকার খামারপাড়ার ওই বাড়িতে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে দুই নারী ও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শিশুপুত্র শাফিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ সময় ঘরের দরজা ও লোহার গ্রিল ভেতর থেকে আটকানো ছিল বলে জানান তারা। নিহত সুমির জা ও প্রবাসী জয়েন উদ্দিনের চাচা হাজী ওসমান গনি জানান, আমার শাশুড়ি ও ভাবীর ডায়াবেটিকসের সমস্যা থাকায় প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হতেন। কিন্তু ঘটনার দিন বেলা হয়ে গেলেও ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হলে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের ডেকে গ্রিল ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের লাশ দেখতে পাই। সুমি ও ওই যুবক খাটের উপরে এবং আমার শাশুড়ি জমেলার লাশ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। সুমির শিশুপুত্র শাফি অজ্ঞান হয়ে খাটের এক কোণায় পড়ে থাকতে দেখে ডাকচিৎকার করতে থাকে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাতে বা শনিবার ভোরে কোনো এক সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
Download করুন আমাদের App এবং Subscribe করুন আমাদের YouTube Channel: