ভালো গান দিয়ে যেতে চাই : দিঠি আনোয়ার

ভালো গান দিয়ে যেতে চাই : দিঠি আনোয়ার

প্রথম নিউজ, অনলাইন:   কণ্ঠশিল্পী দিঠি আনোয়ার। স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত উপমহাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার, প্রযোজক, পরিচালক, সুরকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের সুযোগ্য কন্যা তিনি। বাবার উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় সেই ছোটবেলায় নিজেকে জড়িয়েছিলেন গানে। দেখতে দেখতে পার করলেন সংগীত জীবনের দীর্ঘ ৩০ বছর।
বাবার লেখা গান ছাড়াও অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। দিঠির বর্তমান ব্যস্ততা ও আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ।

গানে আজকাল কী করছেন?

বিভিন্ন চ্যানেলে লাইভ শো করছি। এর বাইরে মৌলিক গান নিয়ে সিরিয়াসলি কাজ করছি।
আমার বাবা ‘দিঠির খাতা’ নামের একটি খাতা রেখে গেছেন, যেটাতে ১৭টি মৌলিক গীতিকবিতা রয়েছে। সেগুলো এক এক করে প্রকাশ করব। যেহেতু এখন মিউজিক ভিডিওর যুগ, ভিডিওসমেত ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি দেব। এরই মধ্যে পাঁচটি রেকর্ড করেছি।
কিছু গানের সুর করেছেন অপু আমান, মোমিন বিশ্বাস, জাবেদ আহমেদ কিসলু ভাই। ইচ্ছা আছে, এ বছরই দু-একটি গান প্রকাশ করব।

বাবা সব সময় বলতেন, তিনি খুব খুশি আমি তাঁর লিগ্যাসি ধরে রাখছি। তবে একজন শিল্পীর মূল পরিচয় তৈরি হয় মৌলিক গান দিয়ে। মৌলিক গান করতে উৎসাহ দিতেন।
সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।

সিনেমায় গাইছেন না ইদানীং?

সর্বশেষ ‘জ্বীন’ ছবিতে গেয়েছি। বাবার লেখা। এরপর তো বাবা চলে গেলেন। আর প্লেব্যাক করা হয়নি। দেখুন, ছোটবেলা থেকে খুব ভালো লাগার জায়গা থেকে গান করি। সমসাময়িক অন্যরা অনেক গান করে ফেলছেন, আমাকেও গাইতে হবে—এ রকম ভেবে কখনো গাইনি। আমার ভেতরে কখনো কম্পিটিশন ছিল না। খুব বেছে গান করতে পছন্দ করি। যে কাজটা করে আমি স্বস্তি পাব, সম্মান থাকবে, সেগুলো করি। আব্বু থাকা অবস্থায় অনেক ছবিতে গান করেছি। তখন পরিবেশটা চেনাজানা ছিল। অনেকের সঙ্গেই পারিবারিক সখ্য ছিল। তাঁরা যখন বলতেন, স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম। এখন যাঁরা কাজ করছেন, বেশির ভাগের সঙ্গে ওঠাবসা নেই, সেভাবে চিনি না। আর আমি কাউকে ফোন করে কাজ নেব, এমনটা কখনো করিনি। কাজের জন্য ধরনা দেওয়ার মানুষ আমি নই।

আপনার বাবার লেখা গান নিয়ে ‘অল্প কথার গল্প গান’ বইটির পঞ্চম খণ্ড প্রকাশিত হলো এবারের বইমেলায়...

বাবার জীবদ্দশায় বইটির কাজ শুরু করি। ২০২১-এ বাবা নিজেই প্রথম খণ্ড প্রকাশ করেছিলেন। তখনই আমরা বলেছিলাম, ধারাবাহিকভাবে বইটি আসতে থাকবে। প্রতিটি খণ্ডে বাবার লেখা দুই-আড়াই শ গীতিকবিতা এবং ৫০টি গানের পেছনের গল্প আছে। এই বইটি যাঁরা সংগ্রহে রাখবেন, তাঁরা বাবার সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে পারবেন। বাবার তো ২০ হাজারের বেশি গান। সব এখনো সংগ্রহ করতে পারিনি। ছয় হাজারের মতো সংগ্রহ করেছি। সব গানই আমরা বই আকারে প্রকাশ করব। বাবাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন আমাদের। তাঁর নামে মিউজিক একাডেমি করব, একটি জাদুঘর তৈরির ইচ্ছাও আছে। কতটুকু সফল হতে পারব, জানি না। তবে চেষ্টা করে যাব। আমি, আমার ভাই উপল এবং মা; আমাদের স্বপ্ন হলো বাবাকে বাঁচিয়ে রাখা।

বাবার পথ ধরে আপনি গানে এলেন। আপনার পরে পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখবে কে?

আমার দুই ছেলে। বড় ছেলের মধ্যে মিউজিক কম্পোজিশন নিয়ে আগ্রহ দেখেছি। পিয়ানো, গিটার বাজায়। এখন বিদেশে পড়ছে। তবে আমি ওর ওপর চাপিয়ে দিতে চাই না। ও যদি নিজ থেকে মিউজিক করতে চায়, সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমার ভাইয়ের মেয়ে আরশিও গান করে। আমার আট বছর বয়সে বাবা হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিলেন। আরশির অষ্টম জন্মদিনেও বাবা তাকে হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছেন। এখনো ও গান শিখছে। দেখা যাক, কী হয়।

আপনার ক্যারিয়ারও তিন দশক পেরোলো। এই দীর্ঘ সময়ের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে ভাবেন?

সমসাময়িক অন্য শিল্পীদের চেয়ে আমার গানের সংখ্যা অনেক কম, এ নিয়ে আমার আফসোস নেই। আমি মনে করি, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি একটি পরিবার, আর আমি সেই পরিবারের একজন সদস্য। তবে ইদানীং মাঝেমধ্যে একটু খারাপ লাগে, যখন দেখি শিল্পের চেয়ে অশিল্পের চর্চা বেশি হয়। অনেক কনটেন্টে ভিউ হচ্ছে, ভালো কনটেন্টে ভিউ হচ্ছে না। এ কারণে আমার মতো অনেক শিল্পী গান প্রকাশে দ্বিধাবোধ করেন। এত কষ্ট করে আমরা ভালো গান দেব, সেটা তো মানুষ দেখবে না! আবার এটাও মনে হয়, বাবা তাঁর জীবনের ৬০ বছর এই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে দিয়ে গেছেন। এখন তিনি নেই, তাঁর পরিবারের একজন হিসেবে আমি যেহেতু গানের জগতে আছি, দায়িত্ব থেকেই যায়। সেই ভাবনা থেকে আবার নিজেকে মানিয়ে নিই।

সংগীতে আপনার আগামী দিনের ভাবনা কী?

একটাই ইচ্ছা, কিছু মৌলিক, ভালো গান দিয়ে যেতে চাই। আমি গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে, এটা যেমন একটা পরিচয়। তেমনি একটা সময় মানুষ যেন আমার নামেই আমাকে চেনে, সে রকম কিছু করতে চাই।