বিডিআর বিদ্রোহ সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার সেনা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার পেছনে ষড়যন্ত্র আছে।

প্রথম নিউজ, ঢাকা: রাজধানীর পিলখানায় ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা কোন বিদ্রোহ নয়। এটা একটি সুদূরপ্রসারি ষড়যন্ত্র। এর মূল কারণ ছিল সেনা বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া। এর পিছনে কারা ছিল, কেন এই ঘটনা ঘটেছিল, আজকে দুর্ভাগ্য আমাদের তদন্ত করে তা আজ ১৩ বছরেও বের করা হয়নি।
আজ শুক্রবার রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার সেনা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার পেছনে ষড়যন্ত্র আছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটা(বিডিআর বিদ্রোহ) শুধু একটা বিদ্রোহ ছিলো না, এর পেছনে একটা সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র ছিলো। তার মূল কারণটা ছিলো যে, সেনা বাহিনীর মনোবলটা ভেঙে দেয়া এবং এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো। ওই বিদ্রোহের পেছনে সত্যিকার অর্থে কারা ছিলো এর সুষ্ঠু তদন্ত রিপোর্ট আমরা এখনো পাইনি এবং সেনাবাহিনী যে তদন্ত করেছিলো তারও রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। আজকে দুভার্গ্য আমাদের এতো বছর পরও আমরা কিন্তু তদন্ত করে যে প্রকৃত সত্য, সেই সত্য উদঘাটিত করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে কারা ছিলো, কেনো এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছিলো? আমরা মনে করি, এই যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না এর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে।”
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার সদর দফতরে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সংস্থাটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪জন নিহত হন। এই ঘটনায় হত্যা মামলায় ২০১৩ সালে বিশেষ আদালতে ১৫২জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে এবং খালাশ পায় ২৭৮জন।
পিলখানার এই নির্মম ঘটনার পর বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। সংস্থাটি পূর্ণগঠন করে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-(বিজিবি)’ নামকরণ করা হয়। এই দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় বনানীর সামরিক কবরাস্থানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নিহতদের স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নেতৃবৃন্দ তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্ণেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সারোয়ার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম এ হাসান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর কোহিনুর আলম নূর, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আজিজ রেজা প্রমূখ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া ইউং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুউদ্দীন দিদার ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টি(কাজী) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ডিএলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ন্যাশনাল ডেমেোক্রেটিক পার্টির আবু তাহের প্রমূখ নেতৃবৃন্দও আলাদাভাবে নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবর্ক অর্পন করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫ ফেব্রুয়ারির ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গোটা জাতির জন্যে অত্যন্ত শোকাবহ দিন এবং একই সঙ্গে একটা আতঙ্কের দিন। এজন্যে যে এই দিনে ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে, এই বিদ্রোহের মধ্যে দিয়ে আমাদের জাতির সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ সেনা বাহিনীর এই ৫৭জন কর্মকর্তাকে নিহত করা হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাকে সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিলো। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধেও আমাদের এতো কর্মকর্তা চলে যাননি। একেবারে ৫৬ কর্মকর্তা চলে যাননি, একজন সৈনিক চলে গেছেন।
তিনি বলেন, আমরা আজকে এখানে এসেছি আমাদের সেই যারা আমার অত্যন্ত মহান, জাতির গৌরব, জাতিকে রক্ষা করবার জন্য, দেশকে রক্ষা করবার জন্য শপথ নিয়েছিলেন তাদের এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা শোক প্রকাশ করতে, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে এসেছি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে, আমাদের চেয়ারম্যান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। আমরা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করছি তিনি যেন যারা চলে গেছে তাদের বেহেস্ত নসিব করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেও কিন্তু আমরা একদিনে এত কর্মকর্তা হারাইনি। পিলখানার এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছিল।
Download করুন আমাদের App এবং Subscribe করুন আমাদের YouTube Channel: