সরকারের অপরাধমূলক কর্মকান্ড আড়াল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার : মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের জনগণসহ দেশের সীমানা পেরিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ গণতন্ত্রহীন, মানবাধিকারহীন, ন্যায় বিচারহীন একটি দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে

প্রথম নিউজ, ঢাকা: সরকারের অপরাধমূলক কর্মকান্ডকে আড়াল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কৌশল নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের দায়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর্তৃক পুলিশ প্রধান, র্যাব প্রধানসহ সাতজন সরকারী কর্মকর্তার ভিসা বাতিল এবং প্রতিষ্ঠান হিসাবে র্যাব এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘণের এই অভিযোগ আড়াল করার জন্য জনগনের ট্যাক্সের টাকায় লবিস্ট নিয়োগের তথ্য মার্কিন সরকারি ওয়েব পেজে প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতকে উপলক্ষ করে সরকার তাদের সকল অপরাধমূলক কর্মকান্ডকে আড়াল করতে, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং দুঃশাসনকে প্রলম্বিত করতে বিএনপির বিরুদ্ধে কিছু অপপ্রচারের কৌশল নিয়েছে যে বিষয়ে আমরা আমাদের দলের অবস্থান আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের কাছে দ্ব্যর্থহীনভাবে উপস্থাপন করছি। উপরের পটভূমিকায় মূলতঃ চারটি বিষয় আমরা উপস্থাপন করছি, যথাক্রমে, (১) বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন, (২) ভিসা বাতিল এবং নিষেধাজ্ঞা, (৩) সরকার এবং আওয়ামীলীগের লবিষ্ট নিয়োগ এবং (৪) সত্যকে ধামাচাপা দিতে বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সরকারের মিথ্যাচার করা !
তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের জনগণসহ দেশের সীমানা পেরিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ গণতন্ত্রহীন, মানবাধিকারহীন, ন্যায় বিচারহীন একটি দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে যা আপনারা সবাই অবগত । ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে যদি নির্বাচন ব্যবস্থাকে আইসিইউতে ঢুকানো বলে অবহিত করি, তাহলে এ কথা নিশ্চিত করে বলাই যায় যে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে করে, রক্তের হলি খেলায় মত্ত এই দানব কর্তৃত্ববাদী সরকার বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার কবর রচনা করেছে । মানুষের ভোটের অধিকার হরনের জন্য সরকারী বাহিনী ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম, রাজনৈতিক গায়েবী মামলার মত মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত এই সরকারের অপকর্মের ফিরিস্তি আজ সর্বজনবিদিত। ফলে, তাদের অপকর্মের জন্য যদি কারও ভিসা বাতিল হয় এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয় তা গোটা জাতির জন্য লজ্জাস্কর এক কলংকজনক অধ্যায় হলেও এই কানকাটা নির্লজ্জ সরকার এটাকে জাতীয় সংকট হিসাবে গণ্য না করে বেহায়ার মত তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য, প্রত্যক্ষ-অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। কোন সভ্য গণতান্ত্রিক দেশ হলে সরকার সর্ব প্রথমেই উক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনী কার্যধারা শুরু করতো, গ্রেফতার করতো এবং জাতিকে কলংকের দাগ থেকে উত্তরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে জাতীয় সংকট হিসাবে সবার সহায়তায় এই পরিস্থিতির উত্তরণের চেষ্টা করতো। অথচ, কর্তৃত্ববাদী সরকার হাঁটছে উল্টো পথে, গুমের শিকার পরিবারের বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে, খুনিদের রক্ষার সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যার থেকে প্রমান হয় সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা এই সব খুন গুমের সাথে জড়িত। তাই বিএনপি অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ চায়, খুন, গুমের সাথে জড়িত নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সকলের নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, মানবাধিকার নিশ্চিত করা। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা চায়, গণতন্ত্র ফেরত চায়, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাকে ধামাচাপা দিয়ে কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকার জনগণের করের টাকায় আমেরিকায় লবিস্ট নিয়োগ করেছে যা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে স্বীকৃত। তার ভাষ্যমতে, সরকারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য তারা লবিষ্ট নিয়োগ করেছে। খুন, গুমের মত অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তির দায় কিংবা ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতায় নিমজ্জিত প্রতিষ্ঠানের দায় রাষ্ট্র কিংবা সরকার কিভাবে জনগণের টাকায় ভাবমূর্তি রক্ষার নামে ব্যয় করে ? বিএনপি মনে করে, জনগণের টাকায় লবিষ্ট নিয়োগ করে সরকার মানবাধিকার লংঘনের মত গুরুতর অপরাধে নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টিই প্রমাণিত ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিএনপি মনে করে, সরকার জড়িত না থাকলে তা প্রমানের জন্য তারা উক্ত সাত কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করতো। খুন, গুম, গায়েবী মামলা দায়ের বন্ধ করে, নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে হেঁটে সরকার পদত্যাগ করতো। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের ৩ বছরে সজিব ওয়াজেদ জয়ের সংশ্লিষ্টতায় ৯০ লক্ষ (৯ মিলিয়ন) ডলার খরচ করে লবিষ্ট নিয়োগ করেছিলো বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে। যার প্রমান মার্কিন যুক্তরাষ্টের সরকারি ওয়েব পেজে আছে। বিএনপি জানতে চায়, সজিব ওয়াজেদ জয়ের ঐ টাকার উৎস কি ছিলো, কিভাবে ঐ টাকা বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় গিয়েছিলো ?
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে কথা বলছেন সরকারের কয়েক জন মন্ত্রী। এই চিঠি দেখিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। আপনারা দেখুন ঐ কাকে লেখা হয়েছিল এবং চিঠির বিষয় বস্তু কি ছিল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মানবাধিকার লংঘনের শিকার সকল ব্যাক্তিবর্গদের সব চেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ভ্যানগার্ড। আর তাই, বিএনপি তার আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসাবেই দেশের ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের সমর্থন চায়, মানবাধিকার লংঘন বন্ধ চায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামে দেশী-বিদেশী সব অংশীদারদের এই সরকরারের সকল অপকর্ম সম্পর্কে অবগত করে রাখতে চায় । বিদেশ লেখা আমার ঐ চিঠি সমূহ কোন লবিষ্ট নিয়োগের বিষয় নয়, মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি আহবান মাত্র ! একজন প্রবাসী বাংলাদেশী কর্তৃক লবিষ্ট নিয়োগের বিষয়টিও আজ আমাদের দলের ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে এই সরকার। আমরা বলতে চাই, দেশের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে যদি কোন প্রবাসী কোন পদক্ষেপ কোথাও নেয়, দেশের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য যদি কিছু করে, সে পদক্ষেপ দায়িত্ব তার, বিএনপির নয় । ঐ পদক্ষেপকে নৈতিক সমর্থনের দায়িত্ব বাদে অন্য কোন দায় দায়িত্ব বিএনপি বহন করে না। তবে, বিশ্বের দেশে দেশে প্রবাসীদের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য এ ধরনের দেশপ্রেমিক পদক্ষেপকে বিএনপি সাধুবাদ জানায় এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
Download করুন আমাদের App এবং Subscribe করুন আমাদের YouTube Channel: