‘সরকারের অবস্থান গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিরুদ্ধে’
গণতন্ত্র মঞ্চসহ সমমনাদের মানববন্ধন

প্রথম নিউজ, অনলাইন: দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে গণতন্ত্র মঞ্চসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। রোববার সকালে পৃথক কর্মসূচি পালন করেন দলগুলোর নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার অবস্থান নিয়েছে। শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। না পেলে তাদের বাবা-মা, ভাইবোন, স্ত্রী ও সন্তানদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে সরকার ৭ জানুয়ারি প্রীতি নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। তবে দেশের মানুষ সেই সুযোগ দেবে না। মানবাধিকার দিবসে রাজধানীতে জামায়াতের কর্মসূচিতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপের অভিযোগ করেছে দলটি। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সামনে মানববন্ধন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।
এ সময় মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার স্ট্যাটাস ‘বি’ ক্যাটাগরির। নেপাল-ভুটানের মতো দেশ ‘এ’ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। আমরা এত বছর ধরে ‘বি’তেই আছি, এর বেশি যেতে পারিনি। কারণ, আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চামচা। এত বড় জালিম-জুলুমের শাসন বাংলাদেশে আর কখনো হয়নি।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বকারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কারের অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।
সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। এতে উপস্থিত ছিলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামূল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, অ্যাডভোকেট এসএম মোরশেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহে আলম চৌধুরী, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি প্রমুখ।
দুপুরে বিজয়নগরে ‘গুম-খুন, গণতন্ত্র হত্যা, ভোটাধিকার হরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করে ১২ দলীয় জোট। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম, জোটের প্রধান সমন্বয়ক রাশেদ প্রধান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান প্রমুখ।
পুরানা পল্টনের আল রাজি কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধন করে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। উপস্থিত ছিলেন জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, বিকল্প ধারার নূরুল ইসলাম ব্যাপারী, গণদলের এটিএম গোলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকী, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নূরুল ইসলাম, এনডিপি মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল, এনপিপি মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জোট নেতা নবী চৌধুরী, বেলাল আহমেদ, মনির শরিফ, শাহ আলম বাদল প্রমুখ। মানববন্ধন ও কালো পতাকা হাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, কেন্দ্রীয় নেতা বিএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মামুন রানা প্রমুখ।
এদিন মানববন্ধন করে গণফোরাম (মন্টু), বাংলাদেশ পিপলস পার্টি, নুরুল হক নুর নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ, ড. রেজা কিবরিয়া নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো।
জামায়াতের মানববন্ধনে সংঘর্ষ: রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন করে জামায়াতে ইসলামী। সকালে কর্মসূচি পালন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। যাত্রাবাড়ীতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী যুগান্তরকে বলেন, কর্মসূচি পালনকালে নাশকতার চেষ্টা করায় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড়, খিলক্ষেত, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, কাওরান বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় জামায়াত মানববন্ধন করেছে।