জাবালিয়ায় তুমুল লড়াই, মরিয়া হামাস

জাবালিয়ায় তুমুল লড়াই, মরিয়া হামাস

প্রথম নিউজ, অনলাইন ডেস্ক:  তাতে যুদ্ধ যেদিকেই ধাবিত হোক। ইসরাইলের হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা তর তর করে বাড়ছে। ঠিক কতোজন নিহত হয়েছেন এ পর্যন্ত তার সঠিক তথ্য কারও কাছে নেই। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহতের মোট সংখ্যা কমপক্ষে ৩৫,৩৮৬। যাদের লাশ উদ্ধার হয়েছে, হাসপাতালে মারা গেছেন, এ সংখ্যা তাদের। এর বাইরে সুউচ্চ ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে যারা আটকা পড়ে আছেন, তাদের সংখ্যা তো রয়েছেই। বিশ্ববাসীর আহ্বানকে উপেক্ষা করে ইসরাইলের নতুন হামলায় জেনিন ব্রিগেডের কমান্ডার ইসমাইল খামাইসেহ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আটজন। পশ্চিমতীরের দখলীকৃত জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে তারা হতাহত হন। তবে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে ইসরাইলের পক্ষে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানা যায়নি। এটাই যুদ্ধক্ষেত্রের নীতি। ক্ষয়ক্ষতিকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।

অনলাইন আল জাজিরা ও টাইমস অব ইসরাইল বলছে, আইডিএফ বলেছে, তারা রাফা, জাবালিয়া, নেতজারিম করিডোরে স্থল হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের দাবি তারা হামাসের অস্ত্রের গুদাম, অবকাঠামো এবং ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে। রাফায় প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদের সিনিয়র এক অপারেটরের ওপর বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে আইডিএফ। রাফার পূর্বাঞ্চলে তুমুল হামলা চালাচ্ছিল ইসরাইল। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে জাতিনিধন শুরু করে ইসরাইল। একে প্রথম নাকবার (বিপর্যয়) বলে অভিহিত করা হয়। ওই সময় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দেয়ার জন্য জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালেই স্থাপন করে জাবালিয়া শরণার্থী শিবির।  এই ক্যাম্পটি গাজার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত। একই নামের একটি গ্রামের সঙ্গে একেবারে লাগোয়া তা। গাজা উপত্যকার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির এটি। এখানে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ২৬টি স্কুল পরিচালনা করে। গাজা যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহে ইসরাইলি বাহিনী এখানে বহুবার হামলা করে। তারা ধ্বংস করে দেয় একটি স্কুল। সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল ফিলিস্তিনি কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন করে গাজায় হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। আহত হয়েছেন ১৫০ জন। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি তারা হামাসের যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে। এতে ওই শরণার্থী শিবিরের নিচে একটি বিশাল টানেলে হত্যা করেছে কয়েক ডজন মানুষকে। 

ইসরাইলি সেনাদের হামলার বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে গাজার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাস। রাফা, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির, নেতজারিম করিডোর সহ বিভিন্ন স্থানে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ট্যাংক, পদাতিক বাহিনী ব্যবহার করছে। গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে তারা নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু শুক্রবার কমপক্ষে ৭০টি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের বিমান বাহিনী। এর জবাবে হামাস রকেট হামলা চালাচ্ছে। তাদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। ফলে তারাও মরিয়া। বলেছে, রাফা এবং গাজার অন্য স্থানগুলোতে তারাও অব্যাহতভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে। আগ্রাসন যতদিন থাকবে ততদিনই তাদের লড়াই চলবে।

ডিসেম্বরে এই ক্যাম্পে ইসরাইল হামলা চালিয়ে হত্যা করে কমপক্ষে ৯০ ফিলিস্তিনিকে। এতে শরণার্থী শিবির ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দিয়ের আল বালাহ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ গতকাল বলেছেন, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে ভয়াবহ খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যে কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছিল, ইসরাইলি সেনারা তাকে টার্গেট করেছে। সেখান থেকে ইসরাইলি সেনাদের আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ফলে লোকজন সেখানকার নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরেছিলেন। এখন তাদেরকে টার্গেট করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর গেটেই হামলায় নিহত হয়েছেন ১৫ জন। আহত হয়েছেন বিপুল পরিমাণ মানুষ। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়ার কোনো স্থান নেই। কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলো তাল আজ-কাতার। কিন্তু সেখানে যেতে হলে এমন সব পথ মাড়িয়ে যেতে হবে, যা ইসরাইলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে তাদের সাঁজোয়া যান এবং ট্যাংক টহল দিচ্ছে।    ওদিকে সুইডেনের গোটেনবার্গে স্থানীয় সরকার ইসরাইলসহ সব দখলদার শক্তির পণ্য বর্জনের প্রস্তাব দিয়েছে। সেই প্রস্তাব নিয়ে তারা অগ্রসর হয়েছে। শহরটির ডেপুটি মেয়র ডানিয়েল বারনমার বলেছেন, আমরা মনে করি যুদ্ধমেশিনকে লালন করার জন্য গোটেনবার্গের করদাতাদের অর্থ আমরা ব্যবহার করতে দিতে পারি না।